দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পাঁচজন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লেখক ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে তাদের আগামী ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জাফর ইকবাল ও মাকসুদ কামাল ছাড়াও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়নের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বর্তমানে কারাগারে আছেন। তাদেরও আগামী ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেয় প্রসিকিউশন। রোববার ওই অভিযোগের শুনানি হয়। প্রসিকিউটর এস এম মঈনুল করিম বেঞ্চের সামনে অভিযোগগুলো পড়ে শোনান।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ষড়যন্ত্র, উসকানি, প্ররোচনা ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসামিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাব ও আজিমপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত ছিলেন। এসব হামলায় মোহাম্মদ শাহজাহান, খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ, সাইফুল ইসলাম বাবু, আবদুল ওয়াদুদ ও শাওন শিকদার নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকা মাকসুদ কামাল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ওই কথোপকথনের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও তাদের সহযোগীদের সম্পৃক্ততার সুযোগ করে দেন। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেননি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের রাজাকার হিসেবে উল্লেখ করা, তাদের সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নীরব থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে সহায়তার প্রমাণ থাকার দাবিও করেছে প্রসিকিউশন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আবু সাঈদ হত্যার পর সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক একটি টকশোতে উপস্থিত হয়ে পুলিশের গুলির ঘটনাকে সমর্থন করেন এবং আবু সাঈদকে সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, তার ওই বক্তব্য পরবর্তী হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেয় এবং আন্দোলন দমনে আরও উৎসাহিত করে।
আরেক আসামি অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বঙ্গোপসাগরে ডুবিয়ে দেওয়া এবং নিশ্চিহ্ন করার আহ্বান জানানোর অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের কয়েকজন শেখ হাসিনা ও তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন এবং পরে তাদের নির্দেশ, পরামর্শ বা আদেশ অনুযায়ী কাজ করতেন।
এমএস/